পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে
ছবি
#গীতা প্রসংগ—১ সংগ্রহেঃ শ্রী সুরুজীত চন্দ্র রায় ভক্তিবেদান্ত [১৯০০ খ্রীঃ ২৬ মে সান ফ্রান্সিস্কোতে প্রদত্ত বক্তৃতার সংক্ষিপ্ত অনুলিপি] গীতা বুঝিতে হইলে ইহার ঐতিহাসিক পটভূমি বোঝা প্রয়োজন। গীতা উপনিষদের ভাষ্য। উপনিষদ্‌ ভারতের একটি প্রধান ধর্মগ্রন্থ—খ্রীষ্টান জগতে নিউ টেষ্টামেণ্টের মত ভারতে ইহার স্থান। উপনিষদের সংখ্যা একশতেরও অধিক, কোনটি ছোট এবং কোনটি বড় হইলেও প্রত্যেকটিই স্বতন্ত্র গ্রন্থ। উপনিষদ্‌ কোন ঋষি বা আচার্যের জীবন-কাহিনী নয়, ইহার বিষয়বস্তু আত্মতত্ত্ব। উপনিষদের সূত্রসমূহ রাজাদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিদ্বৎসভায় আলোচনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। ‘উপনিষদ্‌’ শব্দের একটি অর্থ—(আচার্যের নিকট) উপবেশন। আপনাদের মধ্যে যাঁহারা উপনিষদ্‌ পাঠ করিয়াছেন, তাঁহারাই জানেন, ইহাদিগকে কেন সংক্ষিপ্ত সাঙ্কেতিক বিবরণ বলা হয়। দীর্ঘ আলোচনা সমাপ্ত হইবার পর সাধারণতঃ স্মরণ করিয়া এগুলি লিপিবদ্ধ করিয়া রাখা হইত। পূর্বাপর সম্বন্ধ বা পটভূমি নাই বলিলেই হয়। জ্ঞানগর্ভ বিষয়গুলি শুধু উল্লিখিত হইয়াছে। প্রাচীন সংস্কৃত ভাষার উৎপত্তি খ্রীষ্টের ৫০০০ বৎসর পূর্বে। উপনিষদগুলি ইহারও অন্তত দুই হাজার বৎসর আগেকার—ঠিক কখন ইহাদের উৎপত্তি...

গায়ত্রী মন্ত্রের তাৎপর্য

ছবি
গায়ত্রী মন্ত্রের তাৎপর্য কি? উত্তরঃগায়ত্রী হিন্দু ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র মন্ত্র । মন্ত্রের সঠিক তাৎপর্য একমাত্র সাধক ঋষি পুরুষের পক্ষেই বলা সম্ভব ।তারপরও সাধারণ সরল দৃষ্টি নিয়ে মহাত্মা আচার্যদের উপদেশ স্মরণে রেখে, যতটুকু পারা যায় আমরা গায়ত্রী মন্ত্র সম্পর্কে জানব। প্রথমে এর অনুবাদ ও অবস্থানের দিকে নজর দেয়া যাক। ওঁ ভূভবঃ স্বঃ তৎসবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি । ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াতৎ ।।ওঁ।। ঋগ্বেদ, ৩/৬২/১০, যজুর্বেদ, ৩/৩৫, ৩০/২, সামবেদ উত্তরার্চিক, ৬/৩/১০ অনুবাদ : যিনি ত্রিলোকের স্রষ্টা অর্থাৎ সমগ্র বিশ্ব জগতের প্রসবিতা, সেই সচ্চিদানন্দঘন পরমব্রহ্মের বরণীয় জ্যোতিকে আমরা ধ্যান করি । তিনি আমাদের মন ও বুদ্ধিকে শুভ কার্যে প্রেরণা দান করুন। তাত্পর্যে বলা যায় ভূ ভুবঃ স্বঃ অর্থাৎ পৃথিবী, অন্তরীক্ষ, বিশ্বব্রহ্মণ্ডে, এবং সর্বত্র সেই পরমপুরুষ পরমেশ্বরের প্রভাব বা জ্যোতি বিদ্যমান । তাঁকে ঘিরেই আমাদের জন্ম, মৃত্যু, জীবন সব। তাই তাঁর কাছে আমাদের প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের জীবনকে সাত্ত্বিক ভাবে অতিবাহিত করার জন্যে কৃপা করেন । ঋক, সাম, যজু এই তিন বেদেই আমারা মন্ত্রটি পাই যথাক্রমে ঋকবেদ...