অবতার ও ঈশ্বর (১ হতে ১০ পর্ব)



রায় সুরুজীত চন্দ্র ভক্তিবেদান্ত
প্রতিষ্ঠাতা আচার্য ,
শ্রীমদ্ভগবদ ভক্ত সেবা সংঘ
সনাতন ধর্ম ফেইসবুক পেইজ হতে
অবতার ঈশ্বর
পর্ব-
বেদ মানব জাতির ধর্মগ্রন্থ। বেদ আত্মাকেই ভগবান বলিয়াছেন। এই আত্মাকেসচ্চিদানন্দবলা হয়। + চি + আনন্দ = “সচ্চিদানন্দ
অর্থ যে বস্তুটি পৃথিবীর সর্বত্রই আছে সব সময়েই আছে এবং একইভাবে আছে। যার কোন পরিবর্তন হয় না তাকে বলে।
চিঅর্থ যার চেতনা আছে (যাহা মৃত নহে)
আনন্দআনন্দময় চি বিষয় দৃষ্টির বাহিরে যাহা দেখা যায় না অর্থা শূন্য্ আর চি শুন্য বলিয়াই সদাই আনন্দময়।
উপরের বিশ্লেষন থেকে বুঝা যায় যে পৃথিবী সৃষ্টি থেকে এই পর্যন্ত যতগুণিজন পৃথিবীতে এসেছে তাদের সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। তাদের কেউ জীবিত থাকাকালীন পৃথিবীর সর্বত্র একই সময়ে বিরজিত ছিল না। সুতরাং কোন মানুষকেসচ্চিদানন্দবলা যায় না আর কোন মূর্তিকে তোসচ্চিদানন্দবলার প্রশ্নই উঠে না। কেবল পরমাত্মা বা ব্রহ্ম বা ঈশ্বরকেসচ্চিদানন্দবলা যেতে পারে। অন্য কাউকে নয়।
এখন পুরানের কথায় আসি - ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্ ।। (ব্রহ্মসংহিতা /)
অর্থ: “ভগবানের গুণাবলী ধারণকারী বহু পুরুষ আছেন, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরম পুরুষ, কারণ তাঁর ঊর্ধ্বে আর কেউ নেই। তিনি হচ্ছেন পরমেশ্বর এবং তাঁর শ্রীবিগ্রহ সচ্চিদানন্দময়। তিনি অনাদির আদি পুরুষ গোবিন্দ এবং তিনিই হচ্ছেন সর্ব কারণের কারণ।
প্রিয় পাঠক উপরের সচ্চিদানন্দবিগ্রহ এর অর্থের সাথে ব্রহ্মসংহিতা / শ্লোকের মিল আছে কি? আচ্চা ভগবারেন গুণাবলী ধারণকারী বহু পুরুষ আছেন তাহলে ভগবান মানুষ সমান কেটাগরি হয়ে যায় না কি? বেদে বলা হয়েছে ঈশ্বরের জন্ম মৃত্যু নেই কিন্তু ভগবানের গুণাবলী ধারণকারী বহু পুরুষের জন্ম মৃত্যু হয়ে ছিল কি? যদি তাদের মৃত্যু না হতো তাহলে আজও আমরা তাদের পেতাম। যারা মানুষকে ভগবান জ্ঞান করে অপপ্রচার করছে, তারা কি একটিবার চিন্তা করেছে যে ধর্মকে অবমূল্যায়ন করার জন্য তারা দায়ী। সুতরাং জ্ঞানী মানুষের বুঝার জন্য ডজন ডজন উদাহরন যুক্তি দেয়া লাগে না একটাই যথেষ্ট। অজ্ঞানী পাষানী যারা তারাই কেবল বুঝতে চায় না। তারা নিজেরাই সত্যকে উপলব্ধি করতে পারে না অন্যকে কি সত্য বুঝাবে?


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ব্রহ্ম ও উপাসনা

গায়ত্রী মন্ত্রের তাৎপর্য