অবতার ও ঈশ্বর (পর্ব-২-৩)






রায় সুরুজীত চন্দ্র ভক্তিবেদান্ত
প্রতিষ্ঠাতা আচার্য ,
শ্রীমদ্ভগবদ ভক্ত সেবা সংঘ
সনাতন ধর্ম ফেইসবুক পেইজ হতে


অবতার ঈশ্বর
পর্ব-2
চিতী সংজ্ঞানে এই ধাতু হইতেচিশব্দ সিদ্ধ হয়।য়শ্চেততি চেতয়তিসংজ্ঞাপয়তি সর্বান্ সজ্জনান্ য়োগিনস্তুচ্চি পরং ব্রহ্মতিনি চেতন স্বরূপ, কল জীবকে চেতনা যুক্ত করেন এবং যিনি সত্যাসত্যের জ্ঞাপয়িতা, সেই পরমেশ্বরের নামচি এই তিন শব্দের বিশেষণে পরমেশ্বরকেসচ্চিদানন্দ স্বরূপবলে।
একথা ঠিক গীতার অধ্যায় এর শ্লোকের দ্বারা কৃষ্ণ বলে গেছেন বলে অবতারের পক্ষে অনেক ওকালতি করেন। কিন্তু অবতার শব্দটি সেখানে নেই। তাই আমাদের বাংলাদেশের উর্বর পলিমাটিতে অবতারের ঢেউ লেঘে গেছে। পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণকারী মহাত্মা বা বীর পুরুষেরা সকল অন্যায়কে দমন করতে বিদ্রোহ করেন এবং মানব সমাজকে সুন্দর পথে পরিচালিত করেন। এই সকল আদর্শ মানুষেরা পূর্ণ ভগবান, অবতার বা ভগবানের অংশ কোন ক্রমেই নহেন। প্রত্যেকেই যদি তদীয় গুরুকে অবতার আখ্যা দেন, তবে অবতারের গুরুত্ব অবশ্যই থাকে না, আবার সনাতন ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বেদ অবতারকে স্বীকার করে না, সেখানে ৎসৃষ্ট অবতার নিয়ে লাফালাফি করাও সঠিক নয়। সর্বশেষে এটাও মনে রাখা উচিত যে বা যিনি কাউকে অবতার বলে সিদ্ধান্ত করবেন, তার নিজের অবতারত্ব সিদ্ধ হয়েছে কিনা তা প্রমাণ করা প্রয়োজন। কারন সমান সমান জ্ঞানী না হলে তিনি অপরকে চিনতে পারেন না। একজন স্কুলের ছাত্র যেমন কোন কলেজের এম, ক্লাসের ছাত্রের জ্ঞানের পরিমাপ করতে পারেন না, সেইরূপ যে ব্যক্তি অবতার হননি, তার পক্ষে অপর কাউকে অবতার বলে আখ্যা দেয়া সম্ভব হয় না। সুতরাং কাউকে অবতার বলতে হলে যিনি অবতার বলেছেন, তিনি অবতার হয়েছেন কিনা পূর্বে তাই জানা দরকার। আবার যিনি বলেছেন তাকে অবতার বলে প্রমাণ করবার জন্য অপর একজন তৃতীয় ব্যক্তিরও প্রয়োজন। এভাবে অবতারত্ব অসিদ্ধ হয়ে পড়ে। পবিত্র বেদ, উপনিষদ এবং বৈদিক গ্রন্থে অবতারবাদের কোন প্রমাণ নেই, এটা সকল সনাতনী ধর্মাবলম্বী মানুষের জ্ঞান করা একান্ত উচিত।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন - অজ্ঞের হৃদয়ে অন্ধ বিশ্বাসের সৃষ্টি করে সম্প্রদায় সৃষ্টি, দলগঠন এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য ব্যক্তি বিশেষকে অবতার বলে প্রচার করে হরেক রকম আজগুবি ঘটনার সৃষ্টি এবং ধর্ম নিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য চলছে। ব্যাপক আকাশকে যেমন হাতের মুঠোয় আনা যায় না যা কল্পনা করা যায় মাত্র তেমনি সর্বব্যাপক ভগবানকে তাঁর বিশালত্ব ত্যাগ করে নারীর গর্ভাশয়ে রজবীর্যসহ জন্ম নেন কল্পনা পাগলের প্রলাপ মাত্র
অবতার ঈশ্বর
পর্ব-
পবিত্র বেদ, উপনিষদ এবং বৈদিক গ্রন্থে অবতারের কোন প্রমাণ নেই। তারপরও মূর্খদের প্যাঁচাল বন্ধ হয় না। নৃসিংহ অবতার হচ্ছে ভাগবত নামক পুস্তকের প্যাঁচাল। সিংহ এবং নর এর রূপধারী কোন জানোয়ার পৃথিবীতে কোনদিন ছিল না আজ পর্যন্ত কোন বিজ্ঞানী তা প্রমাণ করতে পারেনি। দেখা ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদ্বয় এমন ঘটনার উদঘাটন করতে পারে কিনা। ভাগবতকার এবং পুরানকারদের উর্বর মস্তিষ্কের এসব বিকার গ্রন্থ কল্পনা এবং বাতুলতা। সত্য যুগে যদি কোন পাপ নাই থাক, সকলে সত্য কথা বলে, তবে ঈশ্বররে কি প্রয়োজন ছলি তাকে ৎস, র্কূম, বরাহ নৃসিংহ অবতার হয়ে আসার আছে কি কোন বৈজ্ঞানি যুক্তি??? আবার একদল বলে বেড়াচ্ছে সত্যযুগে ছিলেন হরি। আবার কেউ বলতে পারছে না হরির বাবা-মা পূর্ব পুরুষদের নাম। সত্যিই কি অবাক হওয়ার কান্ড! হরি কি হওয়ায় আসল! কোন মাধ্যম ছাড়া।
এই মুর্হুতে লোকনাথে একটি ওয়েভ সাইট থেকে নেওয়া যটি গান সম্পর্কে দেখি শিল্পীদের ভাব মূর্খ শিল্পী বা শিক্ষিত শিল্পীদের গান হিসাব-নিকাস করলে দেখা যায় মানুষের জ্ঞান কি পরিমান লোপ পেলে একজন মানুষকে অবতার বলে বা ভগবান বলে। শিল্পীর গানঃ
গান
পূর্ণতিথি জন্মাষ্টমী শুভ মঙ্গলবার
কমলা মাতার কোলে এলেন লোকনাথ অবতার
উপাধি
এখানে যোগী পুরুষ লোকনাথকে অবতার উপাধি দেয়া হয়েছে।
গান
প্রণমী তোমারী চরনে হেরি
রাম সেজে তুমি ত্রেতায় এলে
দ্বাপরে তে তুমি কৃষ্ণ সাজিলে
লোকনাথ নামের এই ধরা ধামে
কলি যুগে তোমারে হেরি
ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর তুমি
ত্রিভূবন প্রালন কারী
উপাধি
এখানে যোগী পুরুষ লোকনাথকে অবতার ঈশ্বর এবং সৃষ্টিকর্তা উপাধি দেয়া হয়েছে।
লোকনাথ = লোক হলো মানুষ আর নাথ হলো প্রভূ সুতরাং মানুষের প্রভূ যিনি তিনিই লোকনাথ। এখন ঘরে ঘরে লোকনাথ নামে মানুষ আছে তারা সকলের প্রভূ কি?
ব্রহ্মা-বিষ্ণু-যাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত আছে তারা একজন মানুষকে কখনও অবতার এবং ভগবান (সৃষ্টিকর্তা) বলতে পারেন না। বাংলাদেশের মানুষের মাথায় বুদ্ধি, জ্ঞান কি লোপ পেয়েছে? যে তারা কে অবতার? কে প্রভ? কে মানুষ? এটা চিনতেও ভূল করে?
স্টার জলসা সিরিয়াল দেখায় ভক্তের ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবার আনন্দ বাজার পাবলিশার্স এর স্বত্তাধিকারী লোকনাথ সেবাশ্রম এর বাবু শীতল পাল একটি বই লিখেছেন ভক্তের ভগবান বাবা লোকনাথ। আবার রামকৃষ্ণকে ভগবান বলে, জগৎবন্ধু আগেই মহা মহা প্রভু হয়ে বসে আছেন। এখন পাঠক বলুন আমরা যারা সাধারন মানুষ কোন ভগবানের নিকট প্রার্থনা করবো? কারন তারা সকলেই মানুষ। মানবকুলে তাদের জন্ম হয়েছে। তাদের মৃত্যু হয়েছে। এখন কেবল তারা শুধু পাথরের টুকরো। তারপরও বোকাচোদা মানুষগুলো প্রামাণ্য শাস্ত্রের কথা মানে না, বুঝে না, জানতেও চায় না। এইজন্য বলি আমাদের মস্তিষ্কে পচন ধরেছে। আমাদের শোধরানো দায়। আরো যে কত শত জায়গায় কত শত ভগবান আছে তা লিখে শেষ করা যাবে না। এর একটাই কারন সনাতন ধর্মের মূলধর্মগ্রন্থ বেদ ভূলে যাওয়ার ফলে আজকের হিন্দুদের এই করুন পরিনতি। যা সাধারন হিন্দুরা বা মূর্খ হিন্দুরা বুঝতে পারছে নাশিব এই তিন শক্তির রূপ হলো লোকনাথ। এটা কিঅবতার ঈশ্বর

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অবতার ও ঈশ্বর (১ হতে ১০ পর্ব)

ব্রহ্ম ও উপাসনা

গায়ত্রী মন্ত্রের তাৎপর্য