শঙ্কা ০৬ - ব্রাহ্মণ পিতার সন্তান কি কেবল এইজন্য ব্রাহ্মণ বলা হয় যে তার পিতা ব্রাহ্মণ?

সমাধানঃ ইহা এক ভ্রান্তি যেমন এক ডাক্তারের সন্তান তখনই ডাক্তার হবে যখন তিনি mbbs উত্তীর্ণ করবে। এরূপ ব্রাহ্মণের সন্তান তখনই ব্রাহ্মণ হবে যখন সে ব্রহ্মবিদ্যাই উত্তীর্ণ হবে

মনুর উপদেশ দেখুন -

মাতা-পিতা দ্বারা ৎপন্ন সন্তান মাতার গর্ভ দ্বারা প্রাপ্ত সাধারন জন্ম।  বাস্তবিক জন্ম তো শিক্ষা পূর্ণ করার পরই হয়ে থাকে। - মনু ২।১৪৭

শঙ্কা ০৭ - প্রাচীন কালে ব্রাহ্মণ হওয়ার জন্য কি করতে হতো?

সমাধান- প্রাচীন কালে ব্রাহ্মণ হওয়ার জন্য শিক্ষিত এবং গুণবান উভয় হওয়ার প্রয়োজন পড়তো

মনুর উপদেশ দেখুন -

বেদে পারদর্শী আচার্য দ্বারা শিষ্যকে গায়ত্রী মন্ত্রের দীক্ষা দেওয়ার উপরান্ত তাহার বাস্তবিক মনুষ্য জন্ম হয়ে থাকে।  মনু ২।১৪৮
আজকাল কিছু লোক কেবল নিজে নিজেকে ব্রাহ্মণ বলে জাতির অভিমান দেখায় কারন তার পূর্বজ ব্রাহ্মণ ছিলো।  ইহা একদম ভ্রান্ত ধারণা।  যোগ্যতা অর্জিত করা বিনা কেউ ব্রাহ্মণ হতে পারে না।  আমাদের প্রাচীন ব্রাহ্মণ নিজ তপ দ্বারা নিজ বিদ্যা দ্বারা নিজ জ্ঞান দ্বারা সংসারের মার্গদর্শন করিয়েছিলেন। 


শঙ্কা ০৮ - ব্রাহ্মণ কে কেন অধিক সম্মান দেওয়া হয়?

সমাধানঃ ব্রাহ্মণ এক গুণবাচক বর্ণ।  সমাজের সবচেয়ে জ্ঞানীবুদ্ধিমানশিক্ষিতসমাজের মার্গদর্শন কারীত্যাগীতপস্বী ব্যক্তিই ব্রাহ্মণ বলার অধিকারী হয়ে থাকে। এইজন্য ব্রাহ্মণ কে অধিক সম্মান দেওয়া হয়। বৈদিক বিচারধায় ব্রাহ্মণকে যেমন অধিক সম্মান দেওয়া হয়েছে তেমনি ব্রাহ্মণের খারাপ কার্য পরার পর তাকে অধিক দন্ডও দেওয়া হয়েছে।

মনুর উপদেশ দেখুন -

একই অপরাধ করার জন্য শুদ্রের সবচেয়ে কম দন্ডবৈশের দ্বিগুন, ক্ষত্রিয়ের তিন গুন এবং ব্রাহ্মণের ষোল বা ১২৮ দন্ডের বিধান। মনু ৩৩৭-৩৩৮
এই শ্লোকের আধারের উপর মনু কোন পক্ষপাত করেন নি।

শঙ্কা ০৯ - শুদ্র কি ব্রাহ্মণ এবং ব্রাহ্মণ শুদ্র হতে পারে?

সমাধানঃ  ব্রাহ্মণ, শুদ্র, আদি বর্ণ গুণ কর্ম এবং স্বভাবের উপর বিভাজিত।  এইজন্য ইহার পরিবর্তন।  কোন ব্যক্তি জন্ম থেকেই ব্রাহ্মণ হয় না।  বরং শিক্ষা প্রাপ্তির পশ্চা তাহার বর্ণের নির্ধারণ হয়

মনুর বচন দেখুন -

ব্রাহ্মণ শুদ্র হতে পারে এবং শুদ্রও ব্রাহ্মণ হতে পারে। এই প্রকার ক্ষত্রিয় বৈশ্যও নিজ নিজ বর্ণ পরিবর্তন করতে পারে। মনুস্মৃতি ১০।৬৫
শরীর এবং মন দ্বারা শুদ্ধ - পবিত্র এবং ৎকৃষ্ট লোকের সান্নিধ্যে স্থিত। মিষ্টিভাষী, অহংকার রহিত, নিজ থেকে ৎকৃষ্ট বর্ণের সেবাকারী শুদ্রও উত্তম ব্রহ্ম জন্ম বা দ্বিজ বর্ণকে প্রাপ্ত করতে পারে।মনুস্মৃতি ৯।৩৩৫।
যে মনুষ্য নিত্য প্রাত এবং সন্ধ্যায় ঈশ্বরের আরাধনা করে না তাহাকে শুদ্র বলে জানবে।মনুস্মৃতি ২।১০৩
যে ব্যক্তি বেদের শিক্ষাই দীক্ষিত হয় নি সে শুদ্র তুল্য।মনুস্মৃতি ২।১৭২।
যে ব্রাহ্মণ বেদের অধ্যয়ন বা পালন ছেড়ে অন্য বিষয়ে প্রযত্ন করেন সে শুদ্রত্ব প্রাপ্ত হয়।  মনুস্মৃতি ২।১৬৮।
ব্রাহ্মণ বর্নস্থ ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ অতিশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সঙ্গ করে এবং নিচ থেকে নিচতর ব্যক্তির সঙ্গ ছেড়ে অধিক শ্রেষ্ঠ হয়। ইহার বিপরীত আচরনে পতিত হয়ে সে শুদ্রত্ব প্রাপ্ত হয়।মনুস্মৃতি ৪।২৪৫।
এমনকি কেন ব্রাহ্মণ হোক, কিন্তু যদি সে অভিবাদনের উত্তর শিষ্টতার সহিত দিতে না জানে, তবে সে শুদ্র।মনুস্মৃতি ২।১২৬।
অতঃএব ইহা স্পষ্ট যে, ব্রাহ্মণ উত্তম কর্ম কারী বিদ্বান কে বলে। এবং শুদ্রের অর্থ অশিক্ষিত ব্যক্তি। ইহা কোন জন্মগত সমন্ধ্য নয়



শঙ্কা ১০ - আজ যেনিজেকে নিজে ব্রাহ্মণ বলছে তারা কি আমাদের প্রাচীন বিদ্যা এবং জ্ঞানের রক্ষাকারী ছিলো?

সমাধানঃ আজকাল যে ব্যক্তি ব্রাহ্মণ কুলে ৎপন্ন হয়ে প্রাচীন ব্রাহ্মণের সমান বৈদিক ধর্মের রক্ষার জন্য পুরুষার্থ করছে তারা নিশ্চিৎরূপে ব্রাহ্মণের সম্মানের পাত্র।  কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি ব্রাহ্মণ কুলে ৎপন্ন হয়েই ব্রাহ্মণ ধর্মের বিপরীত কর্ম করে। তারা কোনরূপ ব্রাহ্মণ বলার যোগ্য নয়। যেমনঃ  কোন ব্যক্তি যদি শাকাহারী, চরিত্রবান, ধর্মের জন্য পুরুষার্থ করেন তাহার বর্ণ ব্রাহ্মণ বলার যোগ্য  হোক সে শুদ্র সন্তান। অপরদিকে মাংসাহারীঅসৎচরিত্রসমাজের কোন হিত করে না। সে কখনো ব্রাহ্মণ বলার যোগ্য নয় যদিও সে ব্রাহ্মণ সন্তান হোক। কেবল বসন ধারন করলেই সে ব্রাহ্মণ হয়ে যায় না।  সাথে বৈদিক ব্রতধর্মের পালন অনিবার্য।  প্রাচীন কালে ধর্মরূপী আচরন এবং পুরুষার্থের কারণে ব্রাহ্মণ মানা হয়েছিলো।

এই লেখার মাধ্যমে বৈদিক বিচারধারায় ব্রাহ্মণ শব্দের ভ্রান্তির নিরাকরনের প্রয়াস করা হয়েছে। ব্রাহ্মণ শব্দের বেদে অনেক মহত্ত্বতা। ইহার মুখ্য কারণ জন্মগত ব্রাহ্মণ নয় বরং কর্মগত ব্রাহ্মণ।  মধ্যকালে আমাদের বৈদিক বর্ণ ব্যবস্থা পরিবর্তন হয়ে জাতি ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।  জাতিবাদ দ্বারা হিন্দু সমাজের একতা সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে। হিন্দুর ১২০০ বর্ষের দমনের কারণের যদি কোন মুখ্য কারণ থাকে তাহা জাতিবাদ। জাতিবাদই আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু।  আসুন এই জাতিবাদ রূপী শত্রু কে নষ্ট করার সংকল্প গ্রহন করি

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অবতার ও ঈশ্বর (১ হতে ১০ পর্ব)

ব্রহ্ম ও উপাসনা

গায়ত্রী মন্ত্রের তাৎপর্য