### ব্রাহ্মণ শব্দ নিয়ে ভ্রান্তি নিবারণ ।
সুরুজীত চন্দ্র রায় ভক্তিবেদান্ত
আচার্য
শ্রীমদ্ভগবদ ভক্ত সেবা সংঘ
ব্রাহ্মণ শব্দ নিয়ে
অনেক ভ্রান্তি
রয়েছে। ইহার সমাধান করা অত্যন্ত
আবশ্যক। কারণ হিন্দু সমাজে সবচেয়ে
বড় জাতিবাদ প্রথা
বিদ্যমান। ব্রাহ্মণ শব্দের সত্য অর্থ
কে না
বোঝার কারণে
জাতিবাদের আধিক্য ঘটেছে।
শঙ্কা ০১ - ব্রাহ্মণ এর পরিভাষা বর্ণনা করুন?
পড়া -পড়ানোর
দ্বারা, চিন্তন মনন করার দ্বারা,
ব্রহ্মচর্য, অনুশাসন, সত্যভাষন আদি ব্রত
পালন করার
দ্বারা , পরোপকার
আদি সৎকর্ম করার
দ্বারা, বেদ, বিজ্ঞান আদি পড়ার
দ্বারা, কর্ত্যবের পালন দ্বারা, দান
করার দ্বারা
এবং আদর্শের
প্রতি সমর্পিত
থাকার দ্বারা
মানুষের এই
শরীর ব্রাহ্মণের
শরীরের পরিণত
হয়। - মনু
২।২৮
শঙ্কা ০২ - ব্রাহ্মণ জাতি অথবা বর্ণ?
সমাধানঃ ব্রাহ্মণ বর্ণ
জাতি নয়।
বর্ণের অর্থ
চয়ন বা
নির্ধারন এবং
সামান্যতঃ শব্দ বরণেও এই অর্থ
ব্যবহৃত হয়।
ব্যক্তি নিজ
রূচি, যোগ্যতা
এবং কর্মরন
অনুসারে ইহাকে
স্বয়ং বরণ
করে, এই
জন্য ইহার
নাম বর্ণ।
বৈদিক বর্ণ
ব্যবস্থা মধ্যে
চার বর্ণ।
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শুদ্র।
গীতার বাণী দেখুন -
হে পরন্তপ!
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শুদ্রদের
কর্মসকল স্বভাবপ্রভব
গুণ সকল
দ্বারা প্রভাবিত।
গীতা ১৮।৪১।
শম, দম,
তপ, শৌচ,
ক্ষমা, আর্জ্জব,
জ্ঞান, বিজ্ঞান
এবং আস্তিক্যতাই
ব্রাহ্মণের স্বভাবজ কর্ম। গীতা ১৮।৪২
শৌর্য, তেজ,
ধৃতি, দক্ষতা,
যুদ্ধে অপলায়ন,
দান এবং
ঈশ্বরভাব এগুলো
ক্ষত্রিয়ের স্বভাবজ কর্ম। গীতা ১৮।৪৩।
কৃষি, গোরক্ষা
ও বাণিজ্য
এগুলো বৈশ্যের
স্বভাবজ কর্ম,
পরিচর্য্যাত্মক কর্মই শুদ্রের স্বভাবজ কর্ম।
গীতা ১৮।৪৪।
শঙ্কা ০৩ - মানুষ কোন জাতি?
সমাধানঃ মানুষ
কেবল এক
জাতি। তাহা "মনুষ্য"। অন্য
কোন জাতি
নেই।
শঙ্কা ০৪ - চার বর্ণের বিভাজনের আধার কি?
সমাধানঃ বর্ণ
তৈরী করার
মুখ্য প্রয়োজন
কর্ম বিভাজন।
বর্ণের বিভাজনের
আধার ব্যক্তির
যোগ্যতা। আজও শিক্ষা প্রাপ্তির উপরান্ত
ব্যক্তি ডক্টর,
ইন্জিনিয়ার, উকিল আদি পদ প্রাপ্ত
হন। জন্ম
থেকেই কেউ
ডক্টর, ইন্জিনিয়ার,
উকিল হন
না। ইহাকেই
বর্ণ ব্যবস্থা
বলে।
শঙ্কা - ০৫ কোন ব্রাহ্মণ জন্ম থেকেই হয় না কি গুণ কর্ম স্বভাব দ্বারা?
সমাধান - ব্যক্তির
যোগ্যতার নির্ধারণ
শিক্ষা প্রাপ্তির
পশ্চাতেই হয়।
জন্মের আধারের
উপর হয়
না। কোন ব্যক্তির গুণ, কর্ম
এবং স্বভাবের
আধারের উপরই
তার বর্ণের
নির্ধারণ হয়।
কোন ব্যক্তি
যদি অশিক্ষিত
হন এবং
নিজেকে ব্রাহ্মণ
বলে তো
তাহা ভূল।
মনুর বচন দেখুন -
যেমন কাষ্ঠন
নির্মিত হস্তি
এবং চর্ম
নির্মিত হরিণ
কেবল নাম
মাত্র হস্তি
এবং হরিণ
বলা হয়
তেমনি বিদ্যাহীন
ব্রাহ্মণ কেবল
নাম মাত্র
ব্রাহ্মণের নাম ধারণ করেন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন