অধিবাস কীর্তন

                          সংগ্রহেঃ  শ্রী সুরুজীতানন্দ ভক্তিবেদান্ত

 


 

শ্রীগুরু-প্রেমানন্দে নিতাই গৌর হরিবোল ভজ নিতাই গৌর রাধে শ্যাম। জপ হরে কৃষ্ণ হরে রাম।।

‘‘জয় রে জয় রে গোরা, শ্রীশচীনন্দন,’’

বল ভাই,— ‘‘জয় রে জয় রে গোরা’’

একবার,–জয় দাও ভাই

সবাই মিলেজয় দাও ভাই

একবার,–জয় দাও ভাই

পরম-করুণ শ্রীগুরুদেবেরজয় দাও ভাই শ্রীগুরু-স্বানন্দদাতারজয় দাও ভাই শ্রী,–সঙ্কীর্ত্তন-পিতা গৌরহরিরজয় দাও ভাই আমাদের,–পাগ্লা প্রভু নিতাইচাঁদেরজয় দাও ভাই আমাদের,–দয়ানিধি শ্রীসীতানাথেরজয় দাও ভাই প্রাণ,–গৌরপ্রিয় শ্রীগদাধরেরজয় দাও ভাই গৌর,–ভক্তাগ্রগণ্য শ্রীশ্রীবাসপণ্ডিতেরজয় দাও ভাই আমাদের,–পতিত-পাবন শ্রীগৌরাঙ্গগণেরজয় দাও ভাই হৃদয়ে,–গৌরলীলা স্ফূর্ত্তি পাবে গৌরগণেরজয় দাও ভাই সাঙ্গোপাঙ্গে প্রাণ-গৌরাঙ্গেরজয় দাও ভাই

বল ভাই,–‘‘জয় রে জয় রে গোরা,শ্রীশচীনন্দন, মঙ্গল নটন সুঠাম।’’রে !

নাটুয়া মুরতি

ভুবন-মঙ্গল গৌর আমারনাটুয়া মুরতি আমার,–রসরাজ-গৌরাঙ্গ-নটনাটুয়া মুরতি শ্রীরাধাকৃষ্ণ,–প্রণয়-বিকৃতি-আকৃতি গৌর আমারনাটুয়া মুরতি যুগল-উজ্জ্বল,–রস-নির্য্যাস-মূরতি গৌর আমারনাটুয়া মূরতি। মহাভাব,–প্রেমরস-ঘনাকৃতি গৌর আমারনাটুয়া মূরতি মরি,–রাই কানু একাকৃতি গৌর আমারনাটুয়া মূরতি স্বর্ণ,–পঞ্চালিকা-ঢাকা-নীলমণি গৌর আমারনাটুয়া মূরতি মহা,–রাস-বিলাসের পরিণতি গৌর আমারনাটুয়া মূরতি মূরতিমন্ত-প্রেমবৈচিত্ত্য গৌর আমারনাটুয়া মূরতি ওগো,–আমার গোরানাটুয়া মূরতি ওগো,–আমার গোরা আমার গোরা আমার প্রাণগোরানাটুয়া মূরতি আমার প্রাণগোরানাটুয়া মূরতি মরি—‘‘মঙ্গল নটন সুঠাম। রে ! আজু,–কীর্ত্তন-আনন্দে,’’ শুভ অধিবাস,– ‘‘কীর্ত্তন-আনন্দে,’’ ‘‘শ্রীবাস-রামানন্দে, মুকুন্দ-বাসু গুণ গান।।রে ! !

মুকুন্দ-বাসু গান করে

গোরা,–রসের বদন-পানে চেয়েমুকুন্দ-বাসু গানকরে অনুরাগে ডগমগ হয়েমুকুন্দ-বাসু গান করে

মরি,–‘‘মুকুন্দ-বাসু গুণ গান।। রে !! দ্রাং দ্রাং দ্রিমি দ্রিমি, মাদল বাজত,’’

মধুর মৃদঙ্গ বাজে

মুকুন্দ-বাসু গান করেতার সনে,–মধুর মৃদঙ্গ বাজে

কত,–গরব করে মৃদঙ্গ বাজে বাজে,–ধিক্ তান্ ধিক্ তান্

মৃদঙ্গ বাজেধিক্ তান্ ধিক্ তান্ মৃদঙ্গ বলে,–যে আমার প্রাণ-গৌর না ভজেধিক্তান্ ধিক্তান্ কত,–গরব করে মৃদঙ্গ বাজেধিক্তান্ধিক্ তান্

বাজে—‘‘মধুর-মন্দিরা রসাল। রে ! শঙ্খ-করতাল,- ঘন্টা-রব ভেল, মিলল পদতলে তাল।। রে ! !

আজু,–পদতলে তাল মিলল

গোরার,–কোটি-চন্দ্র-সুশীতলপদতলে তাল মিলল

গৌর আমার,–তালে তালে পদ ফেলে

নাটুয়া মূরতিগৌর আমার,–তালে তালে পদ ফেলে মুকুন্দ-বাসু গান করেগৌর আমার,–তালে তালে পদ ফেলে মধুর মৃদঙ্গ বাজেগৌর আমার,–তালে তালে পদ ফেলে ভাব-হিল্লোলে হেলে দুলেগৌর আমার,–তালে তালে পদ ফেলে আমরি,–‘‘মিলল পদতলে তাল। রে ! ! তখন,–কো দেই গোরাঅঙ্গে, সুগন্ধিচন্দন,’’ নটন হেরে ভাবে বিভোর হরে,– ‘‘কো দেই গোরা-অঙ্গে, সুগন্ধি চন্দন, কো দেই মালতীক মাল।’’ রে !

গোরা,–রসের বদন-পানে চেয়ে

আমরিঅনুরাগে ডগমগি হয়েগোরা,–রসের বদন-পানে চেয়ে ‘‘কো দেই মালতীক মাল। রে ! অমনি,–পিরীতি-ফুলশরে,’’ গৌর আমার,–মৃদু হেসে বাঁকা দিঠে চেয়েঅমনি,– ‘‘পিরীতি-ফুলশরে,’’ ‘‘মরম ভেদল,’’ ভাবে সহচর ভোর।।’’ রে ! !

আজ,–নিজ নিজ স্বভাব জাগ্

গোরার,–ঈষৎ-কটাক্ষ-ঈক্ষণেনিজ নিজ স্বভাব জাগ্ মহা,–ভাব-বারিধির ভাব-ঈক্ষণেআজ,–নিজ নিজ স্বভাব জাগ্

যার,–যেমন ভাব সে তেমনি দেখে

আমার,–ভাবনিধি প্রাণ-গৌরকেযার,–যেমন ভাব সে তেমনি দেকে

যে,–যেমন দেখে সে তেমনি বলে

নিজ নিজ স্বভাবের বলেযে,–যেমন দেখে সে তেমনি বলে

‘‘কোই কহত গোরা, জানকী-বল্লভ,’’

আবেশে মুরারি-গুপ্ত বলে এবে সে মুরারি গুপ্ত

যে,–ত্রেতাযুগে হনুমানএবে সে মুরারি-গুপ্ত আস্বাদিতে লীলা গুপতএবে সে মুরারি-গুপ্ত

সে,–শয়নে স্বপন আন জানে না যে,–হৃদয়ে চিরে দেখায়েছিল

শ্রী,–সীতারামের যুগলরূপযে,–হৃদয় চিরে দেখায়েছিল

আজ,–সেই স্বভাবের বলে বলে বলে,–ওগো তোমরা জান কি

প্রাণ,–গৌর আমার জানকী-বল্লভওগো তোমরা জান কি

কেউ বলে,–‘‘রাধার প্রিয়-পাঁচ-বাণ।’’ রে !

বসু-রামানন্দ বলে

তার,–আপন-স্বভাবের বলেবসু-রামানন্দ বলে

বলে,– মুরারি বল্ কি তুমি,–কারে দেখে কি বা বলছ কেন,–নব-দুবর্বাদল বল্

শ্যাম,–নবঘনে দেখেকেন,–নব-দুবর্বাদল বল্

বুঝি,–ভাল করে দেখতে পাও নাই

এস,–এস মুরারী আমার কাছে এসবুঝি,ভাল করে দেখ্তে পাও নাই

বলে,– দেখ মুরারি

আমার,–অঙ্গে অঙ্গ হেলাইয়ে দেখ মুরারি

প্রতি,–লোমকূপে জ্যোতি উঠ্ছে উজ্জ্বল,–নীলমণি জ্যোতি উঠ্ছে

স্বর্ণবর্ণ ভেদ করিউজ্জ্বল,–নীলমণির জ্যোতি উঠ্ছে দেখ দেখ ,–স্বর্ণবর্ণ ভেদ করিউজ্জ্বল,–নীলমণির জ্যোতি উঠ্ছে

ওর,–বাঁকা-আঁখি তার সাক্ষী দিছে

দেখ দেখ ওর,–বাঁকা-আঁখি তার সাক্ষী দিছে যে,–ব্রজললনার চিতচোরওর,–বাঁকা-আঁখি তার সাক্ষী দিছে

তাই বলি,–গৌর আমার রাধারমণ

আছে,–আবরিত রাধার বরণগৌর আমার রাধারমণ

[মাতন]

নাম ধরেছে গৌরহরি

রাই-সম্পূটিত বংশীধারীনাম ধরেছে গৌরহরি

কেই বলে,–‘‘রাধার প্রিয়-পাঁচ-বাণ,’’ রে ! ঠাকুর,–নয়নানন্দের মনে, আন নাহিক জানে,’’

বলে,–আমি মেনে আন জানি না

ওগো,–তোমার যে যাই বল না কেনেআমি মেনে আন জানি না

আমি অনুমান মানি না

আমি,–যা দেখি তাই মানিআমি,–অনুমানের ধারধারি না

আমি,–নিশিদিশি এই দেখি

গৌর,–গদাধর ছাড়া রইতে নারেআমি,–নিশিদিশি এই , দেখি গদাধর,–গৌর বিহনে প্রাণে মরেআমি,–নিশিদিশি এই দেখি

তাই বলি,–‘‘হামারি গদাধরের প্রাণ।।’’ রে !!

আমার,–গদাধরের প্রাণ গৌর

ওগো,–তোমরা যে যাই বল না কেনেআমার,–গদাধরের প্রাণ গৌর আমি,–কারও কথা শুনতে চাই নাআমারগদাধরের প্রাণ গৌর ওগো,–যে যা বলে বলুক না কেনেআমার, গদাধরের প্রাণ গৌর আমার,–গদাধরেরপ্রাণ গৌর

[মাতন]

———

()

‘‘একদিন পহুঁ আসি, অদ্বৈত-মন্দিরে বসি,’’

মরিযাই রে দিনের বালাই যাই রে

নাম-যজ্ঞরম্ভের পরামর্শের দিনযাই রে দিনের বালাই যাই রেনাম-যজ্ঞারম্ভের পরামর্শের দিন’— এই,–কলিযুগের একমাত্র ধর্ম্মনাম-যজ্ঞারম্ভের পরামর্শের দিন

মরি,–যাই রে দিনের বালাই যাই রে

‘‘একদিন পহুঁ আসি, অদ্বৈত-মন্দিরে বসি,’’

সেই,–অদ্বৈত মন্দিরে বসি

যে,–কেঁদে কেঁদে এনেছেসেই,–অদ্বৈত-মন্দিরে বসি যে,–কেঁদে কেঁদে এনেছে’— অনশনে গঙ্গাতীরে বসে যে,–কেঁদে কেঁদে এনেছে আমার,–প্রাণ-কৃষ্ণ এস বলে যে,–কেঁদে কেঁদে এনেছে’ ‘আমার,–প্রাণ-কৃষ্ণ এস বলে’— কলিজীবের দশা বড় মলিনআমার,–প্রাণ-কৃষ্ণ এস বলে

যে,–কেঁদে কেঁদে এনেছে সেই,–অদ্বৈত-মন্দিরে বসি

যার,–প্রেম-হুঙ্কারে গৌর-অবতারসেই,–অদ্বৈত-মন্দিরে বসি আসন,–নাড়াইয়ে নাঢ়া নাম যাঁরসেই,–অদ্বৈত-মন্দিরে বসি

‘‘বলিলেন শচীর কুমার। রে ! নিত্যানন্দ করি সঙ্গে, অদ্বৈত বসিয়া রঙ্গে,’’

আজ,–আনন্দের আর সীমা নাই রে

নাম-যজ্ঞারম্ভের পরামর্শের দিনআজ,–আনন্দের আর সীমা নাই রে আজ,–তিন প্রভু এক ঠাঁইআনন্দের আর সীমা নাই রে মহোৎসবের করিলা বিচার।। রে ! ! গৌর আমার,–‘‘মহোৎসবের করিলা বিচার।।রে ! ! তাই,–‘‘শুনিয়া আনন্দে আসি,সীতাঠাকুরাণী হাসি, বলিলেন মধুর-বচন।’’ রে !

,–কিসের কথা কইছ তোমরা

আজ,–তিন-জানায় নির্জ্জনে বসি,–কিসের কথা কইছ তোমরা সুখের পাথারে সাঁতার দিছ,–কিসের কথা কইছ তোমরা কথা কইতে কইতে,–সুখের পাথারে সাঁতার দিছ,–কিসের কথা কইছ তোমরা

একবার,–আমি কি শুন্তে পাব না

এত সুখের কিসের কথাএকবার, আমি কি শুনতে পাব না

‘‘বলিলেন মধুর-বচন।’’ রে ! সীতাঠাকুরাণী,–‘‘বলিলেন মধুর-বচন। রে ! তা শুনি আনন্দ-মনে, মহোৎসবের বিধানে, বলে কিছু শচীর নন্দন।।’’ রে !!

মরি,–অমিয়া-মাখান-বোলে

মরি,–হৃদ্-কর্ণ-রসায়নঅমিয়া-মাখানবোলে

‘‘বলে কিছু শচীর নন্দন।। রে !! শুন ঠাকুরাণী সীতা, বৈষ্ণব আনিয়া হেথা,’’

নাম,–সঙ্কীর্ত্তন-যজ্ঞ হবে

এই,–কলিযুগের একমাত্র ধর্ম্মনাম,–সঙ্কীর্ত্তন-যজ্ঞ হবে

তাই বলি,–‘‘শুন ঠাকুরাণী সীতা, বৈষ্ণব আনিয়া হেথা, আমন্ত্রণ করিয়া যতনে। যে বা গায় যে বাজায়, আমন্ত্রণ করি তায়, পৃথক পৃথক জনে জনে।। এত বলি গোরা-রায়, আজ্ঞা দিলা সরাকায়, বৈষ্ণব করহ আমন্ত্রণে। খোল, করতাল লৈয়া, অগুরু-চন্দন দিয়া, পূর্ণঘট করহ স্থাপনে।। আরোপণ করি কলা, তাহে বাঁধ ফুলমালা, কীর্ত্তন-মণ্ডলী কুতূহলে। মাল্য, চন্দন, গুয়া, ঘৃত, মধু, দধি, দিয়া, খোল-মঙ্গল সন্ধ্যাকালে।। শুনিয়া প্রভুর কথা,প্রীতে বিধি কৈল যথা,’’

আনন্দ আর ধরে না রে

কেমন গৌরের,–নাম-যজ্ঞ দেখ্ বলেআনন্দ আর ধরে না রে

‘‘শুনিয়া প্রভুর কথা, প্রীতে বিধি কৈলে যথা, নানা উপহার গন্ধবাসে। সবে হরি হরি বলে’’,

আজ,– আর নাই রে অন্য-বোল

‘‘সবে হরি হরি বলে, খোল-মঙ্গল করে, পরমেশ্বর-দাস রস ভাষে।।’’

——–

()

‘‘নানা দ্রব্য আয়োজন, করি করে নিমন্ত্রণ, কৃপা করি কর আগমন।’’

ওহে,–বৈষ্ণব-গোসাঞি

ঠাকুরের ঠাকুরবৈষ্ণব-গোসাঞি ‘‘কৃপা করি কর আগমন। তোমরা বৈষ্ণবগণ, মোর এই নিবেদন, দৃষ্টি করি কর সমাপন।।’’ ওহে বৈষ্ণব-গোসাঞি,–‘দৃষ্টি করি কর সমাপন।।’’

তোমাদর,–কৃপা নৈলে হবে না হে

এই,–নাম-সঙ্কীর্ত্তন-মহোৎসব তোমাদের,–কৃপা নৈলে হবে না হে

‘‘করি এত নিবেদন, আনিল মহান্তগণ,’’

এস এস হে

ওহে,–বৈষ্ণব-গোসাঞিএস এস হে

এস এস হে

কৃপা করি কাঙ্গালের ঘরেএস এস হে ওহে,–কাঙ্গালের ঠাকুরএস এস হে

তোমারই কর হে

’,–তোমাদের প্রভুর কার্য্যতোমাদের কর হে ‘‘করি এত নিবেদন, আনিল মহান্তগণ, কীর্ত্তনের করে অধিবাস। অনেক-ভাগ্যের ফলে, বৈষ্ণব আসিয়া মিলে,’’

অল্প-ভাগ্যে হয় না

ঠাকুর-বৈষ্ণবের আগমনঅল্প-ভাগ্যে হয় নাঠাকুর-বৈষ্ণবের আগমন’— গৃহে,–হরি নাম-সঙ্কীর্ত্তনঠাকুর-বৈষ্ণবের আগমন

[মাতন]

অল্প-ভাগ্যে হয় না

‘‘অনেক-ভাগ্যের ফলে, বৈষ্ণব আসিয়া মিলে, কাল হবে কীর্ত্তন-বিলাস।। শ্রীকৃষ্ণের লীলা-গুণ (গান), করিবেন আস্বাদন,’’

মার্জ্জন হবে রে

চিত্তদর্পমমার্জ্জন হবে রে দুর্ব্বাসনা-মালিন্য-দূরেতে যাবে রে দুর্ব্বাসনামালিন্য’— অনাদিকালেরদূর্ব্বাসনা-মালিন্য

দূরেতে যাবে রে

দুর্ব্বাসনা-মালিন্যদূরেতে যাবে রে ভব-মহাদাবাগ্নিনির্ব্বাপণ হবে রে ত্রিতাপ-জ্বালাদূরেতে যাবে রেত্রিতাপ-জ্বালা’— আধ্যাত্মিক,–আধিদৈবিক, আধিভৌতিকত্রিতাপ-জ্বালা আমরি,–ত্রিতাপ-জ্বালা-দূরেতে যাবে রে সবর্ব অমঙ্গলদূরে পালাবে রে আর,–সকল-মঙ্গলউদয় হবে রে সকল-মঙ্গল’— পরিপূণ,–কৃষ্ণ-প্রাপ্তির অনুকূলসকল-মঙ্গল সকল-মঙ্গল শ্রীকৃষ্ণনাম-গুণ-গানেসকল-মঙ্গল

উদয় হবে রে

মরি,–সকল-মঙ্গলউদয় হবে রে

উন্মুখ হবে রে

যত,–বহির্ম্মুখ-চিত্তবৃত্তিউন্মুখ হবে রে ভোগ-বাসনা হতে উঠেউন্মুখ হবে রে প্রাকৃত,–ভোগ-বাসনা হতে উঠেউন্মুখ হবে রে শ্রীকৃষ্ণ-পদে উন্মুখ হবে রে

অনুশীলন করবে

কায়মনোবাক্যে কৃষ্ণঅনুশীলন কর্বেকায়মনোবাক্যে কৃষ্ণসবর্ব-সাধন-শকতি পেয়েকায়মনোবাক্যে কৃষ্ণ

অনুশীলন করবে

সবর্ব-সাধন-শকতি পেয়েঅনুশীলন কর্বেসবর্ব-সাধন-শকতি পেয়ে’— শ্রীকৃষ্ণ-নাম-গুণ-গানেসবর্ব-সাধন-শকতি পেয়ে

[মাতন]

অনুশীলন করবে

কায়মনোবাক্যে কৃষ্ণঅনুশীলন করবে

স্নিগ্ধ হবে রে

সবর্বাত্মাস্নিগ্ধ হবে রে প্রেমামৃত-সিঞ্চনে’ – স্নিগ্ধ হবে রে শ্রীকৃষ্ণ-নামগুণ-গানেপ্রেমামৃত-সিঞ্চনে

[মাতন]

স্নিগ্ধ হবে রে

সর্ব্বাত্মাস্নিগ্ধ হবে রে

দূরেতে যাবে রে

এই,–প্রাকৃত-দেহাভিমানদূরেতে যাবে রেপ্রাকৃত-দেহাভিমান’— সংসার,–বন্ধনের একমাত্র কারণপ্রাকৃত-দেহাভিমান দারুণ-সংসার,–বন্ধনের একমাত্র কারণএই,–প্রাকৃত-দেহাভিমান। এই,–প্রাকৃত-দেহাভিমানদূরেতে যাবে রে

ভূষিত হবে রে

ভাব-ভূষণেভূষিত হবে রেনানা-ভাব-ভূষণে’— কম্প,অশ্রু, পুলকাদিনানা-ভাব-ভূষণে শ্রীকৃষ্ণ-নাম-গুণ-গানেনানা-ভাব ভূষণে

[মাতন]

মরি,–ভূষিত হবে রে নানা-ভাব-ভূষণেভূষিত হবে রে

লুব্ধ হবে রে

গোপী-ভাবামৃতেলুব্ধ হবে রে

অভিমান পাবে রে

শ্রীরাধাদাসীঅভিমান পাবে রেশ্রীরাধাদাসী-অভিমান পাবে’— কৃষ্ণ-নাম-গুণ-গানেরাধাদাসী-অভিমান পাবে

[মাতন]

শ্রীরাধাদাসীঅভিমান পাবে রে

প্রাপ্তি হইবে রে

শ্রীরাদাকৃষ্ণপ্রাপ্তি হইবে রেশ্রীরাধাকৃষ্ণ প্রাপ্তি হবে’— ব্রজে গোপী-দেহ পেয়েরাধাকৃষ্ণ প্রাপ্তি হবে

[মাতন]

ডুবে যে যাবে রে

যুগল,–সেবামৃত-রসেডুবে যে যাবে রে যুগল,–সেবামৃত-সমুদ্রেডুবে যে যাবে রে শ্রীগুরু-রূপাসখীর আনুগত্যেডুবে যে যাবে রে

‘‘শ্রীকৃষ্ণের লীলা-গুণ (গান), করিবেন আস্বাদন, পূরিবে সবার অভিলাষ। শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য-চন্দ্র, সকল-ভকতবৃন্দ, গুণ গায় বৃন্দাবন-দাস।।’’

———-

()

‘‘জয় জয় নবদ্বীপ মাঝ।’’

আজ,–পাথার বয়ে যায় রে

সঙ্কীর্ত্তন,–অধিবাসে নদীয়ায় আনন্দেরপাথার বয়ে যায় রে ‘‘জয় জয় নবদ্বীপ মাঝ। আজ,–গৌরাঙ্গ-আদেশ পাইয়া, ঠাকুরঅদ্বৈত যাইয়া, করে খোল-মঙ্গলের সাজ।।’’রে !! সীতানাথ আমার,–‘‘করে খোল-মঙ্গলের-সাজ।।’’ রে ! !

আজ,–আনন্দ আর ধরে না রে

আমার,–সীতানাথের অন্তরেআজ,–আনন্দ আর ধরে না রে সঞ্চিত-সাধ পূর্ণ দেখেআজ,–আনন্দ আর ধরে না রে বহুদিনের,–সঞ্চিত-সাধ পূর্ণ দেখেআজ,–আনন্দ আর ধরে না রে

বলে,–প্রতিদিনে সফল হল

আমার,–গঙ্গাজন-তুলসী দেওয়াএতদিনে সফল হল

এতদিনে সুফল ফল্

অনশনে,–হা কৃষ্ণ বলে কাঁদারএতদিনে সুফল ফল্

গেলকলিজীবের দুঃখ গেল

যার লাগি আমি কেঁদেছিলামগেল,–কলিজীবের দুঃখ গেল

আর,–ত্রিতাপ-জ্বালায় জ্বলতে হবে না

এই যে,–তাপ-জুড়ান-নামের প্রচার হলআর,–ত্রিতাপ-জ্বালায়

জ্বল্তে হবে না প্রেম-বন্যায় জগৎ ভাস্বে কলিহত-জীবে পাবে

ব্রহ্মাদির,–সুদুর্ল্লভ-প্রেমধনকলিহত-জীবে পাবে

তাই আজ,–আনন্দ আর ধরে না রে

কলিজীবের,–সৌভাগ্য স্মঙরি সীতানাথেরআনন্দ আর ধরে না রেকলিজীবের,–সৌভাগ্য স্মঙরি’— হবে,–অনর্পিত-প্রেমের অধিকারীকলিজীবের সৌভাগ্য স্মঙরি

আনন্দ আর ধরে না রে

শান্তিপুরাধিপ-সীতানাথের মনেআনন্দ আর ধরে না রে শান্তি পাবে জগজনেতাই,–আনন্দ আর ধরে না রে

তাইতে,–সীতানাথের আনন্দিত মন

হবে ব্রতের উদ্যাপনতাইতে,–সীতানাথের আনন্দিত মন

প্রাণে পেয়েছে মহাবল

পেয়ে,–অনশনে ক্রন্দনের ফলপ্রাণে পেয়েছে মহাবল

বলে,–সবাই মিলে হরি বলো

আমার,–ব্রত-উদ্যাপন হোলোসবাই মিলে হরি বলো সীতানাথ আমার,–‘‘করে খোল-মঙ্গলের সাজ।। রে; ; আনিয়া বৈষ্ণব সব, হরিবোল কলরব,’’

আজ,–আনন্দ আর ধরে না রে

শুভ-অধিবাসের আয়োজনেআজ,–আনন্দ আর ধরে না রে

আজ,–উঠিল আনন্দরোল

সবাই বলে হরিবোলআজ,–উঠিল আনন্দ-রোল

‘‘আনিয়া বৈষ্ণব সব, হরিবোল কলরব, মহোৎসবের করে অধিবাস রে ! আপনি নিতাই-ধন, দেই মালা-চন্দন,’’

আদর আর কে বা জানে

আদরের মূরতি নিতাই বিনেআদর আর কে বা জানে আমার,–নিতাই বিনে আর কে জানে শ্রীগৌরাঙ্গ-দাসের আদরআমার,–নিতাই বিনে আর কে জানে

আমার নিত্যানন্দরাম

শ্রীবৈষ্ণব-ধামআমার নিত্যানন্দ-রাম ‘‘আপনি নিতাই-ধন, দেই মালা-চন্দন, নিতাই আমার,করে প্রিয়-বৈষ্ণব-সম্ভাষ।।’’ রে !!

এস,–ধর মালা পর বলে

নিতাই আমার,–চলে যেতে পড়ে ঢলেএস,–ধর মালা পর বলে অমিয়ামাখান-বোলেএস,–ধর মালা পর বলে আমরি মৃদু হেসে,–অমিয়া-মাখান-বোলেএস,–ধর মালা পর বলে

নিতাই-চাঁদের মালা পরাণ নয় রে

যেন,–শকতি জাগায়ে দিলনিতাই-চাঁদের মালা পরাণ নয় রেযেন,–শকতি জাগায়ে দিল’— মাল্য-চন্দন পরাবার ছলেযেন,–শকতি জাগায়ে দিল নিতাই আমার,–‘‘করে প্রিয়-বৈষ্ণব-সম্ভাষ।। রে !! অমনি,–‘‘গোবিন্দ মৃদঙ্গ লইয়া, বাজায় তাত্তা থৈয়া থৈয়া,’’

নিতাই-চাঁদের,–পরশে শকতি পাইয়া

মাল্য-চন্দন পরাবার কালেনিতাই-চাঁদের,–পরশে শকতি পাইয়া অমনি,–‘‘গোবিন্দ মৃদঙ্গ লইয়া, বাজায় তাত্তা থৈয়া থৈয়া, করতালে অদ্বৈত চপল।’’ রে !

করতালে অদ্বৈত চপল

পেয়ে প্রাণ গৌরাঙ্গের আজ্ঞাবলকরতালে অদ্বৈত চপল হরিদাস করে গান, শ্রীবাস ধরয়ে তান। নাচে গোরা কীর্ত্তন-মঙ্গল।।রে !!

ভুবন-মঙ্গল গৌর-নাচে

শ্রীসঙ্কীর্ত্তন-অধিবাসেভুবন-মঙ্গল গৌর নাচে

নাচে রে গৌরাঙ্গ-নট

শ্রীসঙ্কীর্ত্তন-সুলম্পটনাচে রে গৌরাঙ্গ-নট সঙ্কীর্ত্তন-রাস করি প্রকটনাচে রে গৌরাঙ্গ-নট সঙ্কীর্ত্তনে রাস করি প্রকটনাচে রে গৌরাঙ্গ-নট

আমার,–রসরাজ-গৌরাঙ্গ নাচে

নব-নটবর-সাঝেআমার,–রসরাজ-গৌরাঙ্গ নাচে বিনোদ-নাটুয়া-কাছেআমার,–রসরাজ-গৌরাঙ্গ নাচে নিজ-পারিষদ্‌-গোপী-মাঝেআমার,–রসরাজ-গৌরাঙ্গ নাচে

আমার,–সোনার গৌরাঙ্গ নাচে

হেম-কিরণিয়াআমার,–সোনার গৌরাঙ্গ নাচে

যেন,–সোণারই কমল নাচে

প্রেম-সরোবর-মাঝেযেন,–সোনারই কমল নাচে ভাব-হিল্লোল হেলে দুলেযেন,–সোনারই কমল নাচে

হেলে দুলে প্রাণ-গৌর নাচে

বিংশতি-ভাব-হিল্লোলেহেলে দুলে প্রাণ-গৌর নাচে তাথৈয়া তাথৈয়া মৃদঙ্গ বাজেহেলে দুলে প্রাণ-গৌর নাচে

আমার,–নিতাই নাচে কাছে কাছে

হেলে দুলে প্রাণ-গৌর নাচেআমার,–নিতাই নাচে কাছে কাছে

নিতাই নাচে তার কাছে কাছে

হেমদণ্ড-বাহু পসারিয়েনিতাই নাচে তার কাছে কাছে

আমার,–নিতাই নাচে কাছে কাছে

মা তার,–হাতে হাতে সঁপে দিয়েছেতাই, –নিতাই নাচে কাছে কাছেমা তার,–হাতে হাতে সঁপে দিয়েছেঁসঙ্কীর্ত্তন আসবার বেলামা তার,–হাতে হাতে সঁপে দিয়েছে

দেখো নিতাই থেকো কাছে

প্রাণ-গৌর ধুলায় পড়ে পাছেদেখো নিতাই থেকো কাছে

তাই,–নিতাই নাচে কাছে কাছে

প্রাণ-গৌর ঢলে পড়ে পাছেতাই,–নিতাই নাচে কাছে কাছে

আর কে বা ধর্বে নিতাই বিনে কে ধরে আর

বিবর্ত্ত-বিলাস-রঙ্গ-ভারনিতাই বিনে কে ধরে আর

[মাতন]

বিশ্বম্ভরে কে বা ধরে

ধরণীধর নিতাই বিনেবিশ্বম্ভরে কে বা ধরে

[মাতন]

তাই,–কাছে নাচে সেবাবিগ্রহ নিতাই

বুকে ধরা গোরা পাছে পড়ে ধরায়তাই,–কাছে নাচে সেবাবিগ্রহ নিতাই সেতনু লুটাবে ধুলায়তাই,–কাছে নাচে সেবাবিগ্রহ নিতাইসে তনু লুটাবে ধূলায়’— যা ধরিতে ভয়বাসি হিযায়সে তনু লুটাবে ধূলায়

[মাতন]

তাই,–নিতাই নাচে কাছে কাছে

বুকে ধরা ধন ধূলায় পড়ে পাছেতাই,–নিতাই নাচে কাছে কাছে বুকের নিধি ধূলায় পড়ে পাছেতাই,–নিতাই নাচে কাছে কাছে

নাচিছে নিতাই বাহু-পসারি

ধরিবে নটনপর-গৌরহরিনাচছে নিতাই বাহু-পসারি

সম্মুখে অদ্বৈত নাচে

গোরা,–রসের বদন-পানে চেয়েসম্মুখে অদ্বৈত নাচে

গরবে অদ্বৈত নাচে

হুঙ্কার-গর্জ্জন করিগরবে অদ্বৈত নাচে আমি,–এনেছি এনেছি বলেগরবে অদ্বৈত নাচে

[মাতন]

অদ্বৈত নাচে হেলে দুলে

আমি,–এনেছি এনেছি বলেঅদ্বৈত নাচে হেলে দুলে

[মাতন]

আমি,–এনেছি এনেছি বলে’— আয়,–আয় তোরা দেখে যাআমি,–এনেছি এনেছি বলে

[মাতন]

আয়,–আয় তোরা দেখে যা’— নিকুঞ্জ-বিলাস-বৈভবআয়,–আয় তোরা দেখে যা আমার,–গৌরকৃতি মদনগোপালআয়,–আয় তোরা দেখে যা

[মাতন]

সম্মুখে অদ্বৈত নাচে

গৌরের,–ভাব-অনুরূপ-স্বরূপ পেয়েসম্মুখে অদ্বৈত নাচে মঞ্জরী-আবেশেসম্মুখে অদ্বৈত নাচে

গদাধর বাম-পাশে আছে

হয়ে,–ছায়ার মত অনুগতগদাধর বাম-পাশে আছে প্রাণ,–গৌর-নটন দেখছেগদাধর বাম-পাশে আছেপ্রাণ,–গৌর-নটন দেখ্ছে’— আমার,–বঁধু কেমন সেজেছেপ্রাণ,–গৌর-নটন দেখ্ছেআমার,–বঁধু কেমন সেজেছে’— গদা-রাধা দেখ্ছেআমার,–বঁধু কেমন সেজেছে গদা-রাধা মনে করিছেআমার,–বঁধু কেমন সেজেছে

[মাতন]

আজ,–আস্বাদিছে গদা-কিশোরী যে,–আশ-মিটান-লীলা রে কখনও দেখে নাই

বঁধুর মাধুরী দেখেছে বটেকিন্তু ,–কখনও দেখে নাই আপনি,–বামে দাঁড়ালে কি মাধুরীকখনও দেখে নাই

আস্বাদন হয় নাই

যুগল-মাধুরীআস্বাদন হয় নাই

তারাই যুগল হেরে

যারা সম্মুখে থাকেতারাই যুগল হেরে সখী আর মঞ্জরীতারাই যুগল হেরে

লোভোৎপত্তি হয়েছিল বটে

তাদের মুখে সুখের বিকাশ দেখেলভোৎপত্তি হয়েছিল বটে যুগল-মাধুরী আস্বাদিতে-লোভোৎপত্তি হয়েছিল বটে

আজ,–সে সাধ মিটাইছে আস্বাদিছে গদা-কিশোরী

আমা-সনে,–মিলে বঁধূর কি মাধুরীআস্বাদিছে গদা-কিশোরী

[মাতন]

তাইত রাধা হল গদা

পুরাইতে অপূর্ণ-সাধাতাইতে রাধা হল গদা

তাইতে বুঝি বলেছিল

তাই,-গৌর-প্রিয় গদাধরতাইতে বুঝি বলেছিল

কোটি কোটি গোপীনাথ-সেবন

গৌর তোমার পাদ-দর্শনকোটি কোটি গোপীনাথ-সেবন

সে মাধুরী কোথা পাবে

গোপীনাথ-মাধুরী কোটি-গুণিতে হলেসে মাধুরী কোথা পাবে যে মাধুরী রাধা-সনে মিল্লেসে মাধুরী কোথা পাবে

তাই তো গদাই-এর অধিক প্রীতি

গোপীনাথ হতে গৌরাঙ্গ-প্রতিতাই তো গদাই-এর অধিক প্রীতি

আজ,–আস্বাদিছে যুগল-মাধুরী

গদাধর-প্রাণকিশোরীআজ,–আস্বাদিছে যুগল-মাধুরী

গদাধর বাম-পাশে আছে

অপূর্ণ-ভোগ-ভোগের আশেগদাধর বাম-পাশে আছে

নরহরি চামর ঢুলাইছে

প্রাণগৌরাঙ্গের,–সঙ্কীর্ত্তন-শ্রম জানিনরহরি চামর ঢুলাইছে অনুরাগে ডগমগ হয়েনরহরি চামর ঢুলাইছে গোরা-রসের বদন-পানে চেয়েনরহরি চামর ঢুলাইছে মধুর-মধুর-রঙ্গ দেখ্ছেনরহরি চামর ঢুলাইছে

নাগরীর নাগরালি দেখ্ছে

বিলাস-বিবর্ত্ত-বিলাস-রঙ্গেনাগরীর নাগরালি দেখছে সঙ্কীর্ত্তন-রাস-রঙ্গেনাগরীর নাগরালি দেখছে

তার,–দুনয়নে বারি ঝরছে

নরহরি চামর ঢুলাইছেতার,–দুনয়নে বারি ঝর্ছে

প্রেম-ধারায় ধিক্ মানিছে

সেবা-অনুরাগে নরহরি-প্রেমধারায় ধিক্মানিছে

বলে,–দূরে যা রে প্রেমবারি

আমি,–এখন তোরে চাই নাবলে,–দূরে যারে প্রেমবারি গোরারসের,–বদন হেরি চামর করদূরে যারে প্রেমবারি [

মাতন]

নাগরালির মাধুরী হেরিদূরে যা রে প্রেমবারি

নরহরি চামর ঢুলাইছে আজ,–ঘিরে ঘিরে নাচ্ছে

শ্রীবাসাদি-ভক্তগণঘিরে ঘিরে নাচ্ছে মণ্ডলী-বন্ধন করিঘিরে ঘিরে নাচ্ছে

মাঝে নাচে গোরা-বনমালী

চারিদিকে ঘিরে পরিষদ্‌-আলিতার,–মাঝে নাচ গোরা-বনমালী

মাঝে মাঝে গৌর নাচে

দুই দুই পরিকরতার,–মাঝে মাঝে গৌর নাচে সঙ্কীর্ত্তনে রাস রচেতার,–মাঝে মাঝে গৌর নাচে

আমার,–রসরাজ গৌরাঙ্গ নাচে

নিজ,–পারিষদ্গোপী-মাঝেআমার,–রসরাজ গৌরাঙ্গ নাচে

সবাই মনে করছে

আমারই কাছে গৌর নাচেসবাই মনে কর্ছে

নটন-শোভার বলিহারি যাই

,–‘‘গমন নটন-লীলা,’’ ওগো আমার,–চিতচোর প্রাণ-গৌরাঙ্গের-গমন নটন-লীলা ওগো আমার,–রসরাস-গৌরাঙ্গ-নটেরগমন নটন-লীলা ওগো আমার,–সঙ্কীর্ত্তন-সুলম্পটের-গমন নটন-লীল ওগো আমার,–নদীয়া-বিনোদ-গৌরাঙ্গেরগমন নটন-লীলা ওগো আমার,–প্রাণ-শচী-দুলালিয়ারগমন নটন-লীলা ওগো আমার,–সতীনাথের আনা নিধিরগমন নটন-লীলা ওগো আমার,–গদাধরের প্রাণ-বঁধুয়ারগমন নটন-লীলা ওগো আমার,–শ্রিবাস-অঙ্গনের নাটুয়ারগমন নটন-লীলা ওগো আমার,–নরহরির চিতচোরেরগমন নটন-লীলা ওগো আমার,–নিতাই-পাগল-করা গোরারগমন নটন-লীলা

চলে যেতে নেচে যেছে

নাটুয়া-মূরতি গৌর আমারচলে যেতে নেচে যেছে প্রাণ-গৌরাঙ্গের,–নাটুয়া-মূরতি নটন-গতিচলে যেতে নেচে যেছে

মূরতি দেখে মনে হচ্ছে বুঝি,–নটনে ওর উৎপত্তি

কোন-দেশে কোন-নিগূঢ়-খেলায়বুঝি,–নটনে ওর উৎপত্তি

তাই,–চলে যেতে নেচে যায়

আমার গোরা,–ভাবে ভরা রসে গড়াতাই,–চলে যেতে নেচে যায় ,–‘‘গমন নটন-লীলা, বচন সঙ্গীত-কলা,’’

সঙ্গীতেতে কথা কইছে

রসের গোরা চিতচোরা,–চলে যেতে নেচে যেছেসঙ্গীতেতে কথা কইছে ওগো আমার,–রসের গোরা চিতচোরা-সঙ্গীতেতে কথা কইছে

যেন,–কতশতকোকিল কুহরিছে

পঞ্চম-রাগ জিনিযেন,–কতশত-কোকিল কূহরিছে

না, না,–তাঁতেও তুলনা হয় না যেন,–অমিয়া-সিন্ধু উথলিছে

জগৎ অমৃতময় কর্বে বলেযেন,–অমিয়া-সিন্ধু উথলিছে ওগো আমার,–গৌরহরি হরি বলিছেযেন,–অমিয়া-সিন্ধু উথলিছে

[মাতন]

চল্তে নাচে বল্তে গায়

আমার,–রসময়-গৌরাঙ্গ-রায়-চল্তে নাচে বল্তে গায়

[মাতন]

আপনি কি নাচে গায়

কে যেন নাচায় কে যেন বলায়আপনি কি নাচে গায়

বুঝি ওরে নাচায় গাওয়ায়

মনে হয় শ্রীগুরু-প্রেরণায়বুঝি ওরে নাচায় গাওয়ায় বিলাস-বিবর্ত-বিলাস-রঙ্গেবুঝি ওরে নাচায় গাওয়ায়

তারই বিকাশে নটন গান

বিলাস-রঙ্গের উঠেছে তুফানতারই বিকাশে নটন গান ‘‘মধুর-চাহনি আকর্ষণ।’’

তারই আঁখি মন হরিছে

একবার,–হরি বলে যার পানে চাইছেতারই আঁখি-মন হরিছে হরি বলে যার পানে চাইছে’— আমার,–রসের গোরা নেচে নেচেহরি বলে যার পানে চাইছে

[মাতন]

তারই আঁখি-মন হরিছে হরি বলা নয় গো বলে কয়ে করছে চুরি

চিতচোর গৌরহরি-বলে কয়ে কর্ছে চুরি

চাওলা নয় শর-সন্ধান

স্বভাব জাগায়ে হানিছে বাণ চাওয়া নয় শর-সন্ধান

সে অমনি ঢলে পড়িছে

হরি বলে যার পানে চাইছেসে অমনি ঢলে পড়িছে ভাবতে অবশ হয়েসে অমনি ঢলে পড়িছে চাহনিতে বাণ হেনেছেতাই,–সে অম্নি ঢলে পড়িছে তাইতে অবশ হয়েসে অমনি ঢলে পড়িছে

সে,–ভাবাবেশে ঢলে পড়িছে

আমার,–ভাবনিধি যার পানে চাইছেসে,–ভাবাবেশে ঢলে পড়িছে

জীবন-যৌবনে সঁপে দিয়েছে

কায়-মনে গোরা-পদে বিকাইছেজীবন-যৌবন সঁপে দিয়েছে

অপরূপ গৌরাঙ্গ-রঙ্গ

চাহনিতে কি মধুর-রঙ্গঅপরূপ গৌরাঙ্গ-রঙ্গ

মধুর-রঙ্গে মাতাল জগতে

হরি বলে নয়ন-বাণাঘাতেমধুর-রঙ্গে মাতাল জগতে

তাইতে নয়ন-বাণ হানিছে

ভোগ-লালসা জেগে উঠেছেতাহাতে নয়ন-বাণ হানিছে

গোরা-চাহনি কি বা মধুর

স্বভাব জাগায় নদীয়া-বধুরগোরা চাহনি কি বা মধুর

অপরূপ গৌরাঙ্গ-রঙ্গ বাহু পসারি করছে কোলে

বাণ-সন্ধানে যে পড়্ছে ঢলেবাহু পসারি কর্ছে কোলে

আমার,–রসের গৌরাঙ্গ নাচে অমারা,–রসরাজ-গৌরাঙ্গ নাচে

তারে,–বাহু পসারি হৃদে ধরিআমার,–রসরাজ-গৌরাঙ্গ নাচে

আমার,–রসিয়া-গৌরাঙ্গ নাচে আমার,–বিলাসি-গৌরাঙ্গ নাচে

জগজীবে রসবরষিয়েআমার,–বিলাসি-গৌরাঙ্গ নাচে যে,–ঢলে পড়ে তার বুকে ধরেআমার,–বিলাসি-গৌরাঙ্গ নাচে

[মাতন]

নাচে,–গৌরাঙ্গ নাগর-বর

কীর্ত্তন,–কেলিরস-তৎপরনাচে,–গৌরাঙ্গ নাগর-বর

নাচে,–রসের গোরা হেলে দুলে

রস-কেলি-কল্লোলেনাচে,–রসের গোরা হেলে দুলে ‘‘মধুর-চাহনি আকর্ষণ।’’ ,–‘‘রঙ্গ বিনে নাহি অঙ্গ,’’

প্রতি অঙ্গ রঙ্গে গড়া

আমার,–রঙ্গিয়া প্রাণ-গৌরাঙ্গেরপ্রতি অঙ্গ রঙ্গে গড়া আমার,–অনঙ্গ মোহন-গৌরাঙ্গেরপ্রতি অঙ্গ রঙ্গে গড়া রঙ্গের মন্দির গোরারপ্রতি অঙ্গ রঙ্গে গড়ারঙ্গের মন্দির গোরা’— বিলাস-বিবর্ত্ত-বিলাসরঙ্গের মন্দির গোরা নবীন-কামের কোঁড়ারঙ্গের মন্দির গোরা

[মাতন]

দেখে মনে হয় মূরতি

বুঝি,–রঙ্গেতে ওর উৎপত্তিদেখেমনে হয় মূরতি

তাই, প্রতি অঙ্গে বিকাশ কেলিরস

রাস-কেলি হতে যেরূপ প্রকটতাই,–প্রতি অঙ্গে বিকাশ কেলিরস

মরি কি মূরতি মধুর

কেলি-রঙ্গ-রসপুরআমরি কি মূরতি মধুর

সে,–কেলিরসে হয় নিমজ্জিত

গৌরের কোন অঙ্গে,–যার দৃষ্টি হয় নিপতিতসে,–কেলিরসে হয় নিমজ্জিত

আমার গৌরের প্রতি অঙ্গ রঙ্গ করে

বিশেষ-অঙ্গের অপেক্ষা না করেআমার গৌরের,–প্রতি অঙ্গ রঙ্গ করে রঙ্গ ছাড়া রইতে নারেপ্রতি অঙ্গ রঙ্গ করে

উহার স্বভাব

নিরন্তর রঙ্গ করাউহার স্বভাব

রঙ্গ-আশা মিটে নাই গো

যমুনা-পুলিন-বনেরঙ্গ-আশা মিটে নাই গো

তাই, এসেছে সুরধনী-পুলিনে

এসেছে,–রঙ্গ-সাধ মিটাইতেতাই, এসেছে সুরধুনীপুলিনে জগজীবের স্বভাব জাগাইয়েতাই, এসেছে সুরধুনী-পুলিনে

বিশ্বম্ভর-নাম পূর্ণ কর্ছে

আজ,–সঙ্কীর্ত্তন-রাসরঙ্গেবিশ্বম্ভর-নাম পূর্ণ কর্ছে স্বভাব জাগায়ে রঙ্গ করছেবিশ্বম্ভর-নাম-পূর্ণ করছেস্বভাব জাগায়ে রঙ্গ করেছে’— স্থাবর-জঙ্গম,–গুল্ম-লতা-পশু-পাখীরস্বভাব জাগায়ে রঙ্গ কর্ছে অপূর্ণ-সাধ পূর্ণ করছেস্বভাব জাগায়ে রঙ্গ করছে

বুঝি,–স্বভাব জাগাতে এসেছে এবার

সঙ্কীর্ত্তনরাস রঙ্গেবুঝি,–স্বভাব জাগাতে এসেছে এবার ভাবে বিভাবিত হয়ে রাধারবুঝি,–স্বভাব জাগাতে এসেছে এবার অখিল-ভুবনবাসীরবুঝি,–স্বভাব জাগাতে এসেছে এবার সঙ্কীর্ত্তন-রাস,–রঙ্গভূমি-নদীয়ায়বুঝি,–স্বভাব জাগাতে এসেছে এবার

স্বভাব জাগাতে হয় না রে দেখেলে স্বভাব জেগে উঠে

স্বরূপ-জাগান গোরা-স্বরূপেদেখ্লে স্বভাব জেগে উঠে

আপনি কাছে আসে ছুটে

দেখ্লে স্বভাব জেগে উঠেআপনি কাছে আসে ছুটে ভোগীকে ভোগ দিবার আশেআপনি কাছে আসে ছুটে ভোগী তখন রস লুটেআপনি কাছে আসে ছুটে ‘‘রঙ্গ বিনে নাহি অঙ্গ, ভাব বিনে নাহি সঙ্গ,’’

অভাবের সঙ্গ করে না

আমার,–ভাবনিধি প্রাণ গৌরাঙ্গঅভাবের সঙ্গ করে না অভাবে থাকা দেখ্তে পারে নাঅভাবের সঙ্গ করে না যে ওর জাত-স্বভাব-অভাবের সঙ্গ করে না

স্বভাব জাগায়ে করে সঙ্গ

-মা ওর কি গরজ বালাইস্বভাব জাগায়ে করে সঙ্গ

নিশিদিশি ভাব-প্রসঙ্গ

অন্তরঙ্গ-ভাবুক-সঙ্গেনিশিদিশি ভাব-প্রসঙ্গ

ভাব-ভূষণে ভূষিত অঙ্গ

কম্প, অশ্রু, পুলকাদিভাব-ভূষণে ভূষিত অঙ্গ

-নয় অষ্ট-সাত্ত্বিক

-যে কেলি রঙ্গের বিকাশ-নয় অষ্ট-সাত্ত্বিক মরি,–‘‘রসময় দেহের গঠন।।’’

আমার,–গৌর কিশোর-বর

আরে আরে আরে আমারগৌর কিশোর-বর আরে আমার চিতচোরগৌর কিশোর-বর রসে তনু ঢর ঢরগৌর কিশোর-বর অখিল-মরম-চোরগৌর কিশোর-বর শ্রীনবদ্বীপ-পুরন্দরগৌর কিশোর-বর

[মাতন]

অভিনব নাগর-বর চিতচোর গৌর-কিশোরঅভিনব নাগর-বর এক,–নব-রসের মুরতি ধরেছেঅভিনব নাগর-বর মহাভাব-রসের সম্মিলনেঅভিনব নাগর-বর ‘‘নাচে গোরা কীর্ত্তন-মঙ্গল।। রে !! চৌদিকে বৈষ্ণবগণ, হরি বলে ঘনে ঘন,’’

আজ,–বয়ে যায় রে প্রেমের পাথার বয়ে যায় গৌর-প্রেমের পাথার বয়ে যায় মধুর-রসের পাথার

সঙ্কীর্ত্তন,–অধিবাসে নদীয়ায়রয়ে যায় মধুর-রসের পাথার

তাতে,–সুখেতে দিতেছে সাঁতার

যত,–ভক্ত-হংস-চক্রবাক তায়সুখেতে দিতেছে সাঁতার নিতাই-তরঙ্গে নেচে নেচেসুখেতে দিতেছে সাঁতারনিতাই-তরঙ্গে নেচে নেচে’— করুণা-বাতাসে হেলে দুলেনিতাই-তরঙ্গে নেচে নেচে [মাতন] আমরি,–সুখেতে দিতেছে সাঁতার আমরি,–গোরা-রস-বক্ষ-বিহারসুখেতে দিতেছে সাঁতার

‘‘চৌদিকে বৈষ্ণবগণ, হরি বলে ঘনে ঘন, কাল হবে কীর্ত্তন-মহোৎসব।’’ রে !

সবে হরি হরি বলে

নিশি-পরভাতে,–নাম যজ্ঞ দেখব বলেসবে হরি হরি বলে

নয়ন-ভরে দেখ্ব মোরা

কেমন গৌরের নাম-যজ্ঞনয়ন-ভরে দেখ্ব মোরা

‘‘আজ খোল-মঙ্গলি, রাখিয়ে আনন্দ করি, বংশী বলে দেহ জয়-বর।।’’ রে !!

প্রাণভরে জয় দাও ভাই

আমার,–দয়ানিধি-সীতানাথেরপ্রাণভরে জয় দাও ভাই

প্রাণভরে জয় দাও ভাই

আমার,–নিতাই-গৌর-সীতানাথেব-প্রাণভরে জয় দাও ভাইনিতাই, গৌর, সীতানাথ’— তিন প্রভু, এক তনু-মননিতাই, গৌর, সীতানাথ

প্রাণভরে জয় দাও ভাই নিতাই, গৌর, সীতনাথ

জয় রে জয় রে জয়নিতাই, গৌর, সীতানাথ

[মাতন]

হোতা, যজ্ঞেশ্বর, যজমাননিতাই, গৌর, সীতানাথ

[মাতন]

ভিনু ভিনু দেহ একই পরাণনিতাই গৌর, সীতানাথ

[মাতন]

জয়,–গৌরাঙ্গ-প্রেমসিন্ধু জয়

তাতে নিতাই-তরঙ্গ জয়জয়,–গৌরাঙ্গ-প্রেমসিন্ধু জয় অদ্বৈত-করুণা-বাতাস জয়জয়,–গৌরাঙ্গ-প্রেমসিন্ধু জয়

জয়,–নিতাই, গৌর, সীতানাথ

জয়,–গদাধর, শ্রীনিবাসজয়,–নিতাই, গৌর সীতানাথ

[মাতন]

‘‘ভজ, নিতাই গৌর রাধে শ্যাম। জপ, হরে কৃষ্ণ হরে রাম।।’’ [মাতন] শ্রীগুরু-প্রেমানন্দে নিতাই-গৌর-হরিবোল।।

 

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অবতার ও ঈশ্বর (১ হতে ১০ পর্ব)

ব্রহ্ম ও উপাসনা

গায়ত্রী মন্ত্রের তাৎপর্য